দ্য সিগনাল : রশীদ জামীল
আপলোড সময় :
১০-০৯-২০২৫ ০৫:১৪:১২ অপরাহ্ন
.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী ছাত্র শিবির হয়ে গেছে, একথা কেউ বিশ্বাস করে না। ছাত্রলীগের ভোট ছাত্র শিবিরের বাক্সে পড়েছে- এমনটি ছাত্রলীগের দুশমনরাও বলবে না। তাহলে সাদিক কায়েম এতো ভোট কীভাবে পেলো? ঠিক এখানটাতেই লুকিয়ে আছে আগামীর বাংলাদেশের হিসাব নিকাশ।
.
বিএনপি, এনসিপি, এবি পার্টি, গণ-অধিকার, খেলাফত-জমিয়ত-ইসলামী আন্দোলন অথবা বাম ঘরানার দলগুলো, ডাকসুর ম্যাসেজটা কি সবাই রিড করতে পারছেন?
.
বাংলাদেশের ওয়ান-থার্ড তরুণ ভোটার- যারা জীবনে প্রথমবারের মতো ফেব্রুয়ারিতে ভোট দেবে, তাদের মগজ ও মননে যে চব্বিশের চেতনা চিত্রিত হয়ে আছে, যে চেতনার পুরোটাই বাংলাদেশকে ধারন করে, পুরনো গাজির গীত শুনে তারা যে প্রভাবিত হয় না, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো কি সেটা বুঝতে পারছেন? না পারলে সামনের দিনে কপালে আরও খারাবি আছে। কিচ্ছু করার নাই।
.
২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দাপট দেখে বড় হয়েছে। এর আগে; তারা যখন ছোট ছিল, ছাত্রদলের আধিপত্যও দেখা হয়েছে। হলে সিট পেতে হলে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের মিছিলে যেতে হবে। ক্যাম্পাসে হাঁটতে হলে সরকারি দলের লাঠিয়াল বাহিনীকে তোয়াজ করে চলতে হবে। মেয়ে হলে আর কতো সেক্রিফাইস করতে বাধ্য থাকতে হবে, তার কোনো ইয়ত্তা নাই। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্র শিবিরকে বেছে নেবার এটাই কারণ। শিবিরের প্রার্থীকে তাদের কাছে কম্পারেটিভলি বেটার মনে কারণ; তাদের বিশ্বাস, ভিপি হয়ে এই ছেলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বেড়াবে না। হলে সিট পেতে হলে ছাত্র শিবিরের ফরম ফিলাপ করতে হবে না। ডাকসুর নতুন নেতৃত্বের উচিত সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের এই আস্থার মূল্য দেওয়া। তা নাহলে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে তাদেরও বেশি সময় লাগবে না।
.
৩.
বাংলাদেশে আঁতেলশ্রেণির কিছু লোক আছেন, যারা প্রায়োজনের চেয়ে একটু বেশি বুঝেন। ধারণ ক্ষমতার চাইতে বুদ্ধির পরিমাণ বেশি হয়ে যাওয়ায় তাদের বমির পরিমাণটাও হয় বেশি। এরা সকাল দুপুর গণতন্ত্রের ঢেঁকুর তুলে সন্ধ্যেবেলা টেলিভিশনে টেলিভিশনে গিয়ে সেগুলো ফেরি করে বেড়ান। এই যে এরা গণতন্ত্রের বুলি আওড়ান, তারা যে গণতন্ত্রের বেইসিকটাও জানেন না অথবা জানলেও মানেন না, উদাহরণ দেবো?
.
‘বাংলাদেশে দক্ষিণপন্থিদের উত্থান’ নিয়ে বড্ পেরেশান তারা। এই দক্ষিণপন্থিরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়, যদি নির্বাচনী জোট করে ভোটের মাঠে নামে, তাহলে দেশটা মৌলবাদীদের দখলে চলে যাবে- এই চিন্তায় তাদের গণতান্ত্রিক পায়জামা ঢিলা হয়ে থাকে।
আচ্ছা, গণতন্ত্রের মানে যদি হয় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত ও সমর্থন, এবং দক্ষিণপন্থিরা যদি সেই সমর্থন পেয়ে যায়, তাহলে সেটাকে গ্রহণ করাই তো গণতন্ত্রের দাবি হবার কথা ছিল। এটা নিয়ে তাদের পশ্চাদ্দেশে জ্বালাপোড়া করার তো কথা ছিল না। তবুও যদি জ্বলে, তাহলে তারা যে গণতন্ত্রের কথা বলেন, সেটি কোন ক্ষেতের মূলা?
.
৪.
আমি জামাত শিবির সমর্থন করি না। কোনোদিন করব- সেই সম্ভাবনাও নাই। ঢাবির ছাত্রছাত্রীরা শিবিরের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছে। আমি তাদের এই ম্যান্ডেটকে সম্মানের চোখে দেখতে চাই। ছাত্র শিবিরের ছেলে ভিপি হয়ে গেলে চেতনার তার ছিঁড়ে যাবে- বলে যারা গেল কয়েকদিন গলা ফাটালেন এবং শিবির জিতে যাওয়ায় ‘গেল গেল’ রব তুলে এক ধরনের উন্মাদনার মত্ত হলেন, তারা কেন তরুণ প্রজন্মকে বুঝাতে পারলেন না? তার মানে, পুরনো মাজন বিক্রি করার দিন আর নাই। সুতরাং, বাংলাদেশকে তাদের চোখ দিয়েই দেখতে হবে- এই ফ্যান্টাসি থেকে তাদের এখন বেরিয়ে আসা দরকার।
.
৫.
বিএনপির মতো দল যদি না বুঝে, ডাকসুতে এই ভুমিধ্বস পরাজয়ের পরও যদি পুরনো রাজনীতি ত্যাগ করে নতুন বাংলাদেশের রাজনীতির ভাষায় কথা বলতে না শেখে, তাহলে জাতীয় নির্বাচনে আম ছালা তো যাবেই, আমগাছটিই টিকবে কিনা- সন্দেহ আছে।
.
এই যখন অবস্থা, মূল দল বিএনপির যখন এই অবস্থা, তখন বিএনপির উচ্ছিষ্টের আশায় লাইন দেওয়া রাজনৈতিক বুযুর্গানে দ্বীনের নির্বাচনী হাশরটা কেমন হতে পারে, সেটা কি তারা ভেবে দেখছেন?
কমেন্ট বক্স